আমাদের দুজনের সেই সব ক্ষণ


....................................................................................................................................................
এসো! ভালোবাসার বৃষ্টিতে ভিজতে এখন আর বাঁধা নেই
এখন আকাশে রূপালী চাঁদ সবটুকু জোছনা ঢেলে দিয়ে
আমন্ত্রণের ডালা সাজিয়ে নাও ভাসিয়েছে প্রেম যমুনায়
বকূলের মালা হয়তো সে তোমায় দিতে পারবেনা
চাপা ফুলের মিষ্টি গন্ধে সে তোমায় ভাসিয়ে দেবে। 


মনে করো একটা নির্ঝরিনীর পাশে তুমি আর আমি
ওপারে আদিগন্ত সবুজ প্রন্তর,আকাশে সফেদ মেঘের ভেলা
এক প্রান্তে সমুদ্রের নীল জলরাশি ছুয়ে ঠায় দাড়ানো পাহাড়
ঝিরিঝিরি বাতাস তোমার চুল নিয়ে খেলায় মেতেছে
সেই খেলার একমাত্র দর্শক আমি।

শুভ্র কাশফুলে ছেয়ে যাওয়া কাশবনে তোমার অবাধ সাতার
হিমেল হাওয়ায় ক্ষণে ক্ষণে কেপে ওঠা তোমার ঠোট
আমার বাহুডোরে বাঁধা তোমার লতানো কোমল হিয়া
দুঃখ নেই,হাতাশাও নেই, নেই ফিরে যাবার ভাবনা
আমরা দুজন,কেবল পৃথিবীর কোমল শোভায়
মিলে মিশে একাকার প্রেমিক যুগল।

এখন সীমাহীন আকাশে ডানা মেলে ধরো
তোমার হাসির ফুলঝুরিতে থমকে দাড়াক পূবোন বাতাস,
বনের পাখি,আকাশের মেঘ,সমুদ্রে পাল তোলা
নৌকা সে হাসির শব্দে থমকে দাড়াক।

আমাদের প্রেম হয়ে উঠুক সোমেশ্বরী নদীর স্বচ্ছ জল
বিরিশিরি থেকে আমরা যখন ফিরবো
আমাদের হৃদয়ে তখন অযুত রহস্যভেদী নির্মল প্রেম।

খাস তালুকের প্রজা


.........................................
কে ঘটাবে তালুকদারের পতন
হয়তো ভাবছো রসুল পুরের রতন।

রতন এখন পালিয়ে বেড়ায় ভয়ে
তার পিছনে পুলিশ শয়ে শয়ে।

হয়তো ভাবছো রাড়ি খালির খাজা
তার হয়েছে তিন বছরের সাজা।

সেই ভয়ে যে সেও পালিয়ে আছে
মিছিল হলেও নেই সে আগে পাছে।

কে আর হবে প্রতিবাদী ঝান্ডা নিয়ে হাজির
ভয় আছেনা ভীষণ ডান্ডাবাজির।

তালুকদারের ভয়েই জবুথবু
সবাই এখন ভয়েতে আধমরা
যা ঘটছে আগেই ছিল জানা
সব কিছুতো চেয়ারম্যানের করা।

আমজনতা এখন কেন কাঁদো
এখন কেন পালিয়ে থাক ঘরে
একই ভাবে রসুল পুরের রতন
তোমার মতই পালিয়ে গেছে ডরে।

দুঃখ আমার সে এসেছিল বলে


...............................................................
সে চলে গেছে বলে আমার কোন দুঃখ নেই
আমার দুঃখ সে এসেছিল বলে
জীবনের নদীতে আমার যে ডিঙ্গি নৌকা বাঁধা ছিল
সে এসে সেটা ভাসিয়ে নিল মাঝ নদীতে
আমি তখন সদ্য নৌকার হাল ধরতে শিখেছি
মাঝ নদীতে আমাকে ফেলে সে চলে গেল।


সে চলে গেছে বলে আমার কোন দুঃখ নেই
যার যাবার সেতো যাবেই তাতে দুঃখ পেয়ে লাভ কী
আমার দুঃখ সে এসেছিল বলে।
আমি তখন শুধু ঝরা বকূল কূড়োতাম
সে এসে মালা গাথা শেখালো,
শুধু শেখালোনা মালার শেষ প্রান্ত জুড়ে দেয়া,
সে চলে গেল। ফেলে যাওয়া অসমাপ্ত মালা ঝরে গেল।

সে চলে গেছে বলে আমার কোন দুঃখ নেই
আমার দুঃখ সে এসেছিল বলে
আমি অন্ধকারে বাদুড়ের মত ঠিকই সব চিনে নিতাম
সে এসে মোমবাতি জ্বালালো
অনভ্যস্ত চোখ যখন সবে মাত্র আলোতে অভ্যস্ত হচ্ছিল
তখন হঠাৎ সে আলো নিভিয়ে গেল
এখন না আলো, না অন্ধকারে আমি।

সে চলে গেছে বলে আমার কোন দুঃখ নেই
আমার দুঃখ সে এসেছিল বলে
যে জীবন ঘাসফড়িংয়ের, সে জীবন সে বদলে দিতে
স্বপ্ন দেখিয়েছিল প্রজাপতির মখমলি পাখার
সে যখন চলে গেল, মাঝ পথে থেমে গেল সব
না পারি সামনে এগোতে না পারি ফিরে যেতে আগের দিনে
তাই দুঃখ আমার সে এসেছিল বলে।

ফিরিয়ে দাও


............................
তোমার মুখটা এখন আর মনে পড়েনা
শিল্পীর তুলিতে কিংবা ক্যামেরার নিঁখুত চোখে
পৃথিবীর সব ছবি ভেসে ওঠে পলকে,
কেবল একটি বারের জন্যও তোমার ছবিটা ভেসে ওঠেনা
আমি কষ্টের সাগরে হাবুডুবু খাই।


এখন আমার কেবলই মনে হয়, ওটা তোমার অভিশাপ ছিল
না হলে এতো কিছু মনে হয়, কেবল তোমার মুখটা ছাড়া।
তোমার অভিশাপ তুমি ফিরিয়ে নাও
ভালোবাসার এক রত্তিও দেবেনা জানি
তোমার ছবিটা আমার চোখে ফিরিয়ে দাও।

অভিশাপ দিতে মুখের ভাষা থেমে যেত
অভিশাপ দিতে চোখের আলো নিভে যেত
গতি পথ শ্লথ হতো,হাতের কলম থেমে যেত
তারপরও যদি তোমার ছবিটা কল্পনায় ভেসে আসতো!
তুমি অভিশাপ দিলে,কল্পনার চোখেও তোমার ছবিটা মুছে গেল।

তোমার অভিশাপে কল্পনার চোখ কালো চাদরে ঢাকা পড়ে গেল
মুছে গেল তোমাকে ঘিরে বেড়ে ওঠা সব স্মৃতি
ভালোবাসার অপরাধে তুমি আমায় ফাঁসীতে চড়াওনি
দিয়ে গেছ তোমার স্মৃতিহীন বেঁচে থাকার যন্ত্রণা।

হে ঢেউ খেলানো চুলের উবর্শী ললনা
হে ভালোবাসার সাগরের জল কন্যা
তোমার অভিশাপ তুমি ফিরিয়ে নাও
ফিরিয়ে দাও আমার চোখে তোমার ছবিখানি।